পূর্ব বর্ধমান, গলসি: পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি থানার অন্তর্গত গোহগ্রাম এলাকায় বালিঘাটকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দামোদর নদের ওপর অবস্থিত একাধিক বালি খাদে টোল বসানোর প্রস্তাব ঘিরে এলাকায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই বালি খাদগুলি থেকে বালি উত্তোলন করা হলেও আগে কখনও সেখানে টোল নেওয়া হত না। বালি খাদ মালিকরাই নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তা তৈরি করে নদী থেকে বালি তুলতেন।
সম্প্রতি গলসি–২ পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে বালিঘাটে টোল বসানোর প্রস্তাব জানানো হয়। ওই প্রস্তাবের ভিত্তিতে গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত সমিতিকে এনওসি (NOC) দেয় বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বালিঘাট সংলগ্ন এলাকায় তেমন কোনও সরকারি জমি নেই। অল্প কিছু জমি থাকলেও তা সেচ দপ্তরের (ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অধীন।
সেই ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির টোল বসানোর আইনি অধিকার নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি উপপ্রধান জানান, “আমরা কোনওভাবেই বেআইনি কাজকর্মে যুক্ত হব না। শাসকদল কোন আইনের ভিত্তিতে এই টোল বসাতে চাইছে, তা স্পষ্ট করা হোক।
”স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রস্তাবিত টোল অনুযায়ী বড় গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি গাড়ি ৬০০ টাকা এবং ছোট গাড়ির ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা ও ট্রাক্টরের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা নেওয়ার কথা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে গলসি–২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি হেমন্ত পালের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমাদের অন্ধকারে রেখে পঞ্চায়েত টোল বসানোর চেষ্টা করেছিল । নোটিফিকেশন আমরা দেখেছি এবং বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
গোটা বিষয়টি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ।








