শুধু একটি বিদ্যালয় নয়—প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে ওঠার এক নিরব সাক্ষী। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের দীর্ঘ ৮৫ বছরের পথচলায় গৌরবের মাইলফলক স্পর্শ করল সেহারাবাজার অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ঐতিহাসিক উপলক্ষে সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো আবেগঘন বর্ষপূর্তি উদযাপন ও পুনর্মিলন উৎসব। প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দিনভর উৎসবের রঙে রাঙিয়ে উঠল বিদ্যালয় চত্বর।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় পতাকা ও বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর আনুষ্ঠানিক মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বালন করে উৎসবের শুভ সূচনা করেন রায়না বিধানসভার বিধায়ক শম্পা ধাড়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পুরঞ্জয় সরকার, সেহারাবাজার চন্দ্রকুমার ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মুজাফফর আহমেদ, সেহারাবাজার রাধারানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সর্বানী মুখোপাধ্যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত দাস, উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অনন্ত মণ্ডলসহ একাধিক বিশিষ্টজন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক শম্পা ধাড়া আবেগভরে বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয়নি, তৈরি করেছে মানুষ। ভবিষ্যতেও এখান থেকেই আলোর পথ দেখাবে নতুন প্রজন্ম”। তাঁর কথায় উঠে আসে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং আগামী দিনে আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা।
সকাল ১০টা নাগাদ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাপ্রেমীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য প্রভাত ফেরি। এরপর সকাল ১১টা নাগাদ উদ্বোধন হয় বিদ্যালয়ের নবনির্মিত তোরণ। সারাদিন জুড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নানা আয়োজন—ম্যাজিক শো, নৃত্য, একক সংগীত এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ নাটক।
উৎসব উদযাপন কমিটির সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত দাস জানান, মঙ্গলবার শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানীয় জলের মেশিন চালু করা হবে। পাশাপাশি প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, স্মৃতিচারণা ও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকছে।
পুনর্মিলন পর্বে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে শৈশবের স্মৃতি—ক্লাসরুম, খেলার মাঠ, শিক্ষকদের স্নেহ। আবেগঘন মুহূর্তে অনেকেই বলেন, এই বিদ্যালয়ই তাঁদের জীবনের প্রথম আলো। শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্মরণ করেন সেইসব দিন, যখন সীমিত সামর্থ্যেও শিক্ষা ও মানবিকতা ছিল একমাত্র পাথেয়।
দু’দিনব্যাপী এই বর্ষপূর্তি উৎসব সেহারাবাজার অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে নতুন করে হৃদয়ে ফিরিয়ে আনল। অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের আনন্দ আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এই উৎসব হয়ে উঠল এক আবেগের অনুষ্ঠান।








