আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

হিন্দু মহিলার মৃতদেহ কাঁধে তুলে শ্মশানে নিয়েগিয়ে সৎকার কার্য সারলেন, দুই মুসলিম যুবক

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

ধর্ম যার যাই  হোক ।সবথেকে বড়কথা মানুষ মানুষের জন্য , জীবন জীবনেরই জন্য।প্রভু  যীশুখ্রীষ্টের জন্মদিবসের দিনে সেই বাস্তবেরই স্বাক্ষী থাকলেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির গলিগ্রামের  বাসিন্দারা ।আর্থিক  সামর্থ  না থাকায় এদিন এলাকার এক হিন্দু মহিলার মৃতদেহ সৎকারে  নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছিল পরিবার । এই কথা কানে যেতেই ত্রাতা রুপে এগিয়ে আসেন গ্রামের দুই মুসলিম যুবক আজিজুর রহমান ও লালন সেখ। হিন্দু রীতি রেওয়াজকে মান্যতা দিয়ে তাঁরাই  সরস্বতী দাসের মৃতদেহ নিজেদের কাঁধে তুলে শ্মশানে গেলেন । সৎকারের সমস্ত খরচ বহন করার পাশাপাশি এই দুই মুসলিম সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে সরস্বতীদেবীর মৃতদেহ দাহকার্য সম্পূর্ণ করালেন  । দুই মুসলিম যুবকের এই মহানুভবতার প্রশংসা করেছেন আপামোর গলসিবাসী । 

গলসির গলিগ্রামের  এক হতদরিদ্র পরিবারের বধূ ছিলেন  সরস্বতীদেবী। তাঁর প্রৌঢ় স্বামী  ভৈরব দাস একসময়ে পঞ্চায়েতের হয়ে ঢেঁড়া পেটানোর কাজ করতেন । সেই কাজ অনেকদিন আগেই বন্ধ হয়েযায়।  এরপর  থেকে কোনদিন  তিন মাঠে ঘাষ কেটে বিক্রি করেন । আরার কখনো ভিক্ষা করেন  । এই ভাবে সারাদিনে যে দশ কুড়ি টাকা  উপার্জন হয়  তাদিয়েই ওই দম্পতির   দিনগুজরান হত । মাসছয় আগে  মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হন সরস্বতীদেবী । চিকিৎসা করাতে না পেরে রোগযন্ত্রনায় বাড়িতেই আর্ত চিৎকার করে কাঁদতে থাকতেন সরস্বতীদেবী ।

মৃতার আত্মীয় অরুপ দাস বলেন , তাঁর জেঠিমার এই দুরাবস্থার কথা  জানার পরে আন্তরিক ভাবে  পাশে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রামের মুসলিম যুবক আজিজুর।  অসুস্থ হিন্দু মহিলাকে সাহায্যের জন্য সে তাঁর পাতানো দিদি রুবি ঘোষ ও পুরসা গ্রাম নিবাসী  লালন শেখকেও পাশে পায় । তাঁরা সবাইমিলে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে নিজেদের  সাধ্যমতো অসুস্থ সরস্বতীদেবীর জন্য খাবার , পোষাক ও ওষুধ  যুগিয়ে গিয়েছিলেন । এদিন সরস্বতীদেবীর মৃত্যুর পর আজিজুর ও লালন সেখ সৎকার কাজেও একই ভাবে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন । মৃতার স্বামী ভৈরব বাবু এদিন বলেন, আজিজুর ও লালন পাশে না দাঁড়ালে তিনি তাঁর স্ত্রীর মৃতদেহ সৎকার করতে পারাতনা । ওরা দুজনে সত্যি দেবতুল্য মানুষ । 


আজিজুর ও লালন এদিন বলেন , কোন তারিফ বা বাহবা কুড়ানোর জন্য নয় । নিজেদের উপলব্ধি থেকে বুঝেছি ধর্ম যার যাইহোক । আশল সতটা হল মানুষ মানুষের জন্য, জীবন  জীবনেরই জন্য ।এই বাস্তব সত্যকে মান্যতা দিয়েই  আমি আর লালন ওই  দিনদরিদ্র হিন্দু মহিলার পাশে থেকে সন্তানের মত দায়িত্ব পালন করেছি ।  গ্রামবাসীরা বলেন ,সরস্বতী দাসের ছেলে নেই। আজিজুর আর লালন দুইজন ছেলের মতো তাঁর  পাশে দাড়িয়েছিল । এদিন তাঁরা সরস্বতীদেবীর সৎকার কার্যের দায়িত্ব  নিজেধের কাঁধে তুলে নিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে  ভারতবর্ষে  হিন্দু ও  মুসলিমের  সম্প্রীতির ঐক্য আজও  অটুট রয়েছে । 

See also  দুর্ঘটনায় জখম হয়ে জাতীয় সড়কে পড়ে কাতরাতে থাকা বৃদ্ধাকে উদ্ধার হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচালেন দুই তৃণমূল নেতা

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি